Oct 10, 2020

মৃত্যুদণ্ডের আইনে স্বস্তি

একের পর এক ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। সবারই দাবি, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে হবে। এ দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল। মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, মিছিল, মিটিং ও বিবৃতিতে সবারই একই দাবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।



এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইনজ্ঞ, সুধীসমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের অনেকেই বলছে, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলে ধর্ষণের মতো অপরাধ কমবে, দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ বলছেন, শুধু মৃত্যুদণ্ডের আইন করলেই হবে না, এই আইনের সঠিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর পর্যবেক্ষণ থাকতে হবে। ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ’ ব্যানারে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে শুধু মৃত্যুদণ্ড নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও জাগরণ প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি জনগোষ্ঠীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইন পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগামী সোমবার ক্যাবিনেটে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে ও একজন আইনজীবী হিসেবে বলব, বর্বরতম এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হলে তা সময়োপযোগী হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একজন মানুষকে হত্যা করা আর ধর্ষণ করা সমান অপরাধ। কারণ যিনি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন তাঁকে তো সামাজিকভাবে হত্যাই করা হচ্ছে। তাই সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্ষণের কঠোরতম শাস্তির প্রয়োজন। কিন্তু আইন করলেই যে কমে আসবে তার নিশ্চয়তা নেই। আইনের প্রয়োগটাও জরুরি। সাধারণত দেখা যায়, প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ের কারণে, প্রভাবশালীদের রক্ষার জন্য আইনের প্রয়োগই হয় না।

আমরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার একটা সংস্কৃতি এবং একই সঙ্গে দোষারোপের সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছি। রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ হচ্ছে, অথচ সব সরকারের আমলেই এই সব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে মূল্যবোধে চরম অবক্ষয়। আমরা রাজনীতির দোষারোপ করছি, অথচ সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনার প্রধান আসামি তো পালাচ্ছিল পরিবারের সহায়তায়। এ ব্যাপারেও আমাদের সচেতন হতে হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Author: verified_user

ই-মেইল: amarchapaibd@gmail.com